আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
ইরানকে সমর্থন ও বাহরাইনকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টার অভিযোগে বাহরাইনে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। বাহরাইনের কর্মকর্তারা এই অভিযানকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার অভিযান হিসেবে অভিহিত করছেন। তারা বলেছেন, শিয়া ধর্মীয় নেতারা বাহরাইন সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন একমাত্র দেশ যেখানকার শাসকরা সুন্নি মুসলিম পরিবারের। কিন্তু দেশটির বেশিরভাগ জনগণ শিয়া মতাদর্শী।
এই ধরপাকড়ের পাশাপাশি ইরানি বংশোদ্ভূত ৬৯ জন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল ও বেশ কয়েকজকে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এটি সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করছে।
২০১১ সালে বাহরাইনে একবার সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধেছিল। তবে দেশটির সুন্নি সরকার তা দমন করতে সফল হয়।
বাহরাইনের জননিরাপত্তা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক আল হাসান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি মতাদর্শকে প্রতিহত করছি যারা বাহরাইনের সার্বভৌমত্বের বদলে ইরানের নেতাদের নেতৃত্ব মানার দাবি করে।’
রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন শিয়া ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যারা বাহরাইনে বিদ্রোহ উস্কে দিতে এবং ইরানের সহায়তায় শাসক গোষ্ঠীর পতন ঘটাতে চায়।
এদিকে গত ২৮ জুন দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর ইরানি বাহিনী বাহরাইনে ব্যাপক হামলা চালায়। এর মূল কারণ বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত। ইরানে যুদ্ধের সময় যেসব হামলা চালানো হয়েছে, তার অনেকগুলো বাহরাইন থেকে পরিচালনা করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এফএ