আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর পদ ছাড়তে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ—এমন খবর প্রকাশ করেছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তবে দুই মন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ রয়েছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকার কারণে। রিপাবলিকানদের বড় ধরনের নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য এই যুদ্ধকেও দায়ী করা হচ্ছে।
বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন ভোট আয়োজন করাতে বাধ্য করার হুমকি দিয়েছেন।
ম্যাসির যুক্তি, নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্পের উচিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ, পরবর্তী সময়ে নতুন কাউকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, হেগসেথ এক ভিডিও বার্তায় নিজের দায়িত্ব পালনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম," তিনি বলেন, "এটা কাজ করবে না। আমরা পিছু হটবো না।’
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রশাসন ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন—এমন খবর প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রুবিও।
তবে নিজের পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন রুবিও।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ‘ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার হয়ে কাজ করা সবসময়ই আমার পরিকল্পনা ছিল’।
তিনি আরও বলেন, “আমি যে কাজ করছি, তা আমি ভালোবাসি," রুবিও বলেন, "আর যখন তারা বলে যে তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সবসময় হেসে বলি, ‘কোনটা’?”
এদিকে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, দুই পক্ষই এই সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর রুবিও সরে যেতে পারেন, এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে।
দুই পক্ষই একে ‘ভুয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি।
ট্রাম্প এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দুজনেই ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন। তাদের এই পরাজয়ের ফলে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট, দুটিরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।
এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথ সম্পর্কে তিনি ফোন পেয়েছেন, তবে তাকে রাখার পুরো ইচ্ছা তার রয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন’। এছাড়াও তিনি তার দৃষ্টিতে হেগসেথের কিছু সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার এবং এখন নবম মাসে চলা ইরান যুদ্ধ।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্প হয়তো জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর