আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এর ফলে তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুমোদিত হয়।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ৫৯২ সদস্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে অংশ নেন ৩৯৮ জন। এরমধ্যে ২৭৯ জন সদস্য চুক্তির পক্ষে এবং ১১৯ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
এরআগে গত আগস্টে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
চুক্তিটির মূল লক্ষ্য তিন দেশের মধ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে চুক্তির আওতায় শুধু সামরিক সহায়তাই নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিন দেশ যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময়, অস্ত্র উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আনাদোলু জানিয়েছে, তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা এবং সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার তাৎপর্য বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে চায় রিয়াদ।
তবে চুক্তিটি নিয়ে তুরস্কের অভ্যন্তরেও কিছু রাজনৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং ন্যাটোর দায়িত্বের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তির আওতায় সামরিক সম্পৃক্ততার সীমা এবং পার্লামেন্টের তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এই চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং এর প্রধান উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা।
অনুমোদিত নথি অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলো প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের জন্য চুক্তির আওতায় থাকবে। পরবর্তী সময়ে কোনো দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অন্য দেশকেও সদস্য করার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা
এমএইচআর