আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মন্দিরে বসে থাকার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কখনো স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা হাতে নিয়ে তাকে এলাকায় ঘুরতেও দেখা যায়।
বুধবার সকালে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর ঘোষপাড়া এলাকায় এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত নারীর নাম সীমা ঘোষ সরকার (৩৫)। এ ঘটনায় তার স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে রিন্টু ঘোষের সঙ্গে সীমার বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। রিন্টু রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে ফুল, মুড়ি ও গুড় বিক্রি করতেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) অস্থায়ী কন্ডাক্টর হিসেবেও কাজ করতেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে তার সেই চাকরি চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাকরি হারানোর পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রিন্টু। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও অশান্তি হতো।
বুধবার সকালে রিন্টুকে স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে একটি মন্দিরে বসে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কখনো সেই মাথা হাতে নিয়ে তাকে এলাকায় ঘুরতেও দেখা যায়। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ গিয়ে রিন্টুকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে সীমার বিচ্ছিন্ন মাথা ও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তন্ত্রসাধনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে তন্ত্রসাধনা করছিলেন রিন্টু। দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়ির কালীমন্দির ও পাশের দুর্গামন্দিরে কাটাতেন তিনি।
তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গ্রেফতার রিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।
এমআর