আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ। রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র মাইক কলিন্সকে হারান তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি ছিল এই আসন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে জর্জিয়ার সিনেট আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
কলিন্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারের সময় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।
২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জন অসফ। নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মসূচি, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের আকার ছোট করার ওপর জোর দেন কলিন্স।
রিপাবলিকানরা অসফকে পরাজিত করার আশা করেছিল। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম ইহুদি সিনেটর অসফ এমন একটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে ২০২০ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জয়ী হয়েছিলেন। তবে চার বছর পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয় জর্জিয়ার ভোটাররা।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অসফের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি সিনেটে তার দলের আরেক সদস্য রাফায়েল ওয়ারনকের সঙ্গে আবারও দায়িত্ব পালন করবেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর ওয়ারনকও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে কলিন্সের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন অসফ। তিনি পেয়েছেন ৬৩ শতাংশ ভোট, আর কলিন্স পেয়েছেন ২৯ শতাংশ।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় বাইডেনের কাছে হেরেছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে অঙ্গরাজ্যটিতে জয় পান তিনি।
২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় পরাজয়ের পর ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২০২৩ সালে ট্রাম্প ও অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। নিজেদের পক্ষে ফল পুনর্গণনার জন্য তারা অঙ্গরাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর