আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ এএম
ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ছয় দিন পর পদত্যাগ করেছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। গত ২৮ অক্টোবরের দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পার্লামেন্টে দুর্ঘটনা নিয়ে জবাবদিহি শেষে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আগাম সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অস্কার পুয়েন্তে বলেন, ‘স্পেনের মতো একটি দেশের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা সম্ভব নয়।’ গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
গত সপ্তাহের দুর্ঘটনাটি ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালের পর এটি স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে দীর্ঘ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন পুয়েন্তে। এর আগে তিনি রেলপথের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
পুয়েন্তে বলেন, ‘আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি না, আগাম আইনসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’
গত ২৮ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) এবং উগ্র ডানপন্থী ভক্স পার্টি তার পদত্যাগ দাবি করে। সরকারের কয়েকজন মিত্রও একই দাবি জানান।
বিরোধীদের অভিযোগ, দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী। দুর্ঘটনার পর স্পেনের অনেক নাগরিকের মধ্যেই রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও রেলব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন।
বিরোধী দলগুলোর আরও অভিযোগ, পুয়েন্তে দুর্ঘটনার জন্য মানবিক ভুলকে দায়ী করে নিজের ও সরকারের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

তবে কয়েক দিন আগেও দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়েছিলেন পুয়েন্তে। ফলে তার আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা অনেককে বিস্মিত করেছে।
আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এ দুর্ঘটনা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের দলের জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
দুর্ঘটনার পর পুয়েন্তের সামনে দুটি কঠিন বিকল্প ছিল। পদত্যাগ না করলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি অসংবেদনশীলতার অভিযোগ উঠতে পারত। আবার পদত্যাগ করলে তার ও সরকারের দায় স্বীকারের বিষয়টি সামনে আসতে পারত। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথ বেছে নেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ’ থেকে নেওয়া বলে উল্লেখ করেন পুয়েন্তে।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তার সহকর্মীর প্রশংসা করে বলেন, পুয়েন্তে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, জবাব ও সমাধান দিয়েছেন এবং এরপর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মর্যাদার কারণে, নিজের ইচ্ছায় এবং দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে।’ সূত্র: বিবিসি।
এমআর