আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগের পর এবার পাল্টা আক্রমণ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি নামের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি নাম এমন ব্যক্তিদের, যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’।
সোমবার (২ নভেম্বর) হায়দরাবাদে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আয়োজিত এক পদযাত্রায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে এসব কথা বলেন অমিত শাহ।
এর আগ গতকাল রোববার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে এসআইআর এবং কথিত ভোট চুরির অভিযোগে বড় সমাবেশ করেছিল কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।
সমাবেশে ভারতের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘এই ১৩ কোটি নামের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেছেন। প্রায় ৩ কোটি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ কোটি নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত ছিল। বাকি প্রায় ৩ কোটি নাম এমন ব্যক্তিদের, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই— তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’
রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কংগ্রেস এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে মূলত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রাখার স্বার্থে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেই তাদের আপত্তি’।
অমিত শাহ প্রশ্ন করেন, ‘একজন ব্যক্তির নামে যদি ভোটার তালিকায় দুটি এন্ট্রি থাকে, তাহলে একটি নাম বাদ দেওয়া হবে না কেন?’ ভোটার তালিকায় একজনের একাধিক নাম থাকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনে সুবিধা পেতে এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এর জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছিল, তখন এসআইআর প্রক্রিয়া ছিল না। তাহলে ওই নির্বাচনে মোদি কীভাবে জয়ী হলেন? জনগণের ভোটেই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের পর মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ৩০ বছর পর দিল্লিতেও দলটি ক্ষমতায় ফিরেছে। বিহারেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে’।
কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এসআইআর বন্ধ করার জন্য কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা চেষ্টা করছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভোটব্যাংক। তবে বিজেপি এসআইআরের পক্ষে রয়েছে। শুধু ভারতের নাগরিকরাই দেশটির নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।’
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সংসদে আলোচনার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন অমিত শাহ।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকতে বিজেপি প্রস্তুত’। বিরোধীদের সংসদে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমএইচআর