Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের শঙ্কা, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেহরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয়ও জোরদার করেছে ইসরায়েল।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সরাসরি অথবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েল কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, তেহরান বড় ধরনের সামরিক উসকানি সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে।

এ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং পেন্টাগনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে ইসরায়েল। 

ওয়ালা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইসরায়েলকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হবে বলেও ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তবে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

ওয়ালার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলের নেভাতিম এবং উভদা বিমানঘাঁটিতে ১০টির বেশি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান পৌঁছেছে এবং অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এ ধরনের হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মূলত হোয়াইট হাউসের হাতে।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর জন্য চাপ দিয়েছেন। 

তবে ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আশঙ্কা করছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এ কারণে দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।

গত ১ নভেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু, রয়টার্স


এমএইচআর