Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের জেরে বন্ধ আড়াই লাখ দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দীপাবলির আগে শেষ রোববার ছিল ১ নভেম্বর। সেই দিনেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির জেরে দিল্লির বহু দোকান বন্ধ রাখতে হয়। 

দিল্লির বণিকসভার দাবি, বিরোধীদের সমাবেশের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার এলাকার প্রায় আড়াই লাখ দোকান বন্ধ ছিল রোববার। তার জেরে ব্যবসায়ীদের ১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এবার এই লোকসান কারা পুষিয়ে দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বণিকসভা।

রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল দিল্লির ব্যবসায়ী মহলের। উৎসবের মৌওসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পরে যাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, সেই অনুরোধ জানিয়েছিল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

দীপাবলির মুখে কেনাকাটির ভরা মৌওসুমে ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতৃত্বদের একাধিক চিঠিও পাঠিয়েছিল তারা।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের মধ্যেই রোববার রামলীলায় সমাবেশ করে ‘ইন্ডিয়া’। ব্যবসায় ক্ষতির জন্য বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন রাহুল। 

কংগ্রেস নেতার দাবি, বিজেপি-ই জোর করে দোকানপাট বন্ধ করিয়েছে। আবার ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ‘কর্ণপাত না করার’ জন্য বিরোধী নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

এই রাজনৈতিক আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণের মাঝে এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বণিকসভার চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়ল জানান, রামলীলা ময়দানের সমাবেশের ফলে আশপাশের প্রায় ২০-২৫টি বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

এসব এলাকায় প্রায় তিন লাখ দোকান রয়েছে। বিভিন্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বণিকসভা জানতে পারে, ওই এলাকাগুলিতে প্রায় আড়াই লাখ দোকানই (যা বাজারগুলিতে থাকা মোট দোকানের প্রায় ৮০ শতাংশ) বন্ধ ছিল।

বণিকসভার তরফে এক বিবৃতিতে ব্রিজেশ বলেন, রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই তালিকায় কাশ্মীরি গেট, মোরি গেট, চাঁদনি চক, চাউরি বাজার, খারি বাওলি, নয়া বাজার, সদর বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, ফতেহপুরি, তিলক বাজার, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, করোল বাগ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকার বহু দোকানপাট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দীপাবলির ভরা মৌওসুমে এই বাজারগুলি মিলিয়ে দিল্লিতে প্রায় ১০-১২ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটি হয় বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে বণিকসভা। 

তাদের বক্তব্য, বেশির ভাগ দোকান বন্ধ ছিল। অবশিষ্ট যে দোকানগুলি খোলা ছিল, সেখানেও বিক্রিবাট্টা প্রায় কিছুই হয়নি। ব্যবসায় প্রায় ১১ হাজার টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে ব্রিজেশের প্রশ্ন, “এখন এর ক্ষতিপূরণ কে করবে? লোকসানের টাকা কি আয়োজকেরা পুষিয়ে দেবেন?”

-এমএমএস