আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে মিসাইলটি প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি।
সোমবার (২ নভেম্বর) হুথিরা এ মিসাইল হামলা চালায়। এতে তারা কতগুলো মিসাইল ব্যবহার করেছে সেটি জানায়নি সৌদি জোট। খবর আল-জাজিরা ও আনাদোলুর।
এই মিসাইল হামলার আগে সৌদি আরব আবহা শহর, খামিস মুসাইত, তাইফ এবং নারজানে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
এর কিছুক্ষণ পর আবার তার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপরই সৌদি জোটের মুখপাত্র জানান তারা হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করেছেন।
সতর্কতা জারির সময় সৌদির সরকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলে, কেউ যেন মিসাইল ও ড্রোন হামলার ভিডিও ধারণ না করেন।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের সীমান্ত-অতিক্রমকারী হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে, তারা রাজধানী রিয়াদ ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরুর প্রেক্ষাপটে এই হামলাগুলো ঘটছে। দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
লোহিত সাগরের পাশে অবস্থিত ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
এসব হামলায় সেখানে সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার সৌদিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আগে এ তথ্য জানায় হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলসাবাহি এক্সে এক পোস্টে এ নিয়ে বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট লোহিত সাগরের রাস ইসা বন্দরে প্রথমে হামলা চালায়। এতে সেখানে থাকা চার বেসামরিক মানুষ আহত হন।
এরপর তারা বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনাকে টার্গেট করে। সেখানে আহত হন আরও তিনজন। তারাও বেসামরিক ব্যক্তি বলে জানিয়েছেন এ হুথি কর্মকর্তা।
তিনি বলেছেন, “তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বারবার হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এছাড়া তারা ইয়েমেনে বেসামরিক ও গুরত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যেসব যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে, এটি তার আরেকটি সংযোজন।”
--এমএমএস