আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
শিক্ষকের উপস্থিতিতে তখন ক্লাস চলছিল। আচমকাই দশম শ্রেণির সেই ক্লাসরুমে ঢুকে দুই ছাত্রীকে যন্ত্রচালিত করাত (চেইন-স) দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে অনন্তপুর জেলার রাপ্তাদু গ্রামের জেলা পরিষদ হাই স্কুলে।
হামলায় দুই ছাত্রীই গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পালানোর সময় অভিযুক্ত যুবককে ধর্মাবরম রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম হেমন্ত ওরফে দাম্মু। সে শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মাবরম মণ্ডলের নাগালুরের বাসিন্দা এবং আক্রান্ত ছাত্রীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
পুলিশ জানায়, স্কুলে মেরামতের কাজ চলায় হাতে করাত থাকা ওই যুবককে মিস্ত্রি ভেবে ভুল করেছিলেন নিরাপত্তারক্ষী ও শিক্ষকরা।
সেই সুযোগে ক্লাস চলাকালীনই সে ভিতরে ঢুকে পড়ে। করাতের আঘাতে এক ছাত্রীর গলা ও পেটে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং ডান হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয় সহপাঠী অপর ছাত্রী।
আরও পড়ুন:
রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ছাত্রীকেই তড়িঘড়ি অনন্তপুরের সরকারি সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ছাত্রীটির জটিল অস্ত্রোপচার চলছে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চোখের সামনে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হেনস্থা এবং প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরেই এই হামলা কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যন্ত্রচালিত করাত নিয়ে এক যুবক কী ভাবে বিনা বাধায় ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভি অনিতা।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “রাপ্তাদু জেলা পরিষদ হাই স্কুলের ক্লাসরুমের ভিতরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলায় আমি গভীর ভাবে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ।
যারা স্কুলের ভিতরে আমাদের মেয়েদের নিশানা করে, সমাজে তাদের কোনও স্থান নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছি এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছি।
এই ঘটনায় দায়ী 'নরপশু'কে খুঁজে বার করে দ্রুত কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-এমএমএস