আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশ দিলেন ওই আদালতেরই এক বিচারপতি।
প্রতিবাদে হিংসাত্মক আন্দোলনে নামল বিরোধী জোট। আর সেই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিদেশ সফর বাতিল করে মাঝ-আকাশ থেকে বিমান ঘুরিয়ে দেশে ফিরলেন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে এমনই ধারাবাহিক ঘটনাপর্বের মুখোমুখি হল পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড।
শুক্রবার পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের দীর্ঘতম মেয়াদের বিচারপতি অ্যানা করউইন-পিওত্রোভস্কা আদালতের প্রেসিডেন্ট বোগদান শভিয়েচকোভস্কি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্তলোমেই সোচানস্কিকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশ দেন।
ওই সময়ের জন্য ট্রাইবুনালের দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তার এই নির্দেশ ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন প্রধান বিরোধী দল ল’ অ্যান্ড জাস্টিসের নেতা ইয়ারোস্লাভ কাচিনস্কি এবং তার অনুগামীরা। রাতের দিকে প্রকাশ্যে আসে সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের অভ্যন্তরীণ বিরোধও।
শুক্রবার রাতে সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের সাসপেনশনের নির্দেশকে ‘বেআইনি’ বলে চিহ্নিত করা হয়। ট্রাইবুনালের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে অ্যানার দেওয়া রায়কে খারিজ করে জানানো হয় যে, শভিয়েচকোভস্কি এখনও বৈধ ভাবে প্রধান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল আছেন।
পাশাপাশি অ্যানার বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষ। অন্য দিকে, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সমর্থন জানিয়েছেন অ্যানার রায়কে!
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি শুক্রবার সেনেগাল সফরে রওনা হয়েছিলেন। রাজধানী ওয়ারশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর পেয়ে স্পেনের আকাশ থেকে বিমান ঘুরিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কির সঙ্গে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী টাস্কের সরকারের ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণেই এমন পরিস্থিতি পোল্যান্ডে।
প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কির সঙ্গে পূর্বতন কট্টর জাতীয়তাবাদী শাসকদল ল’ অ্যান্ড জাস্টিসের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অন্য দিকে, টাস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ।
২০২৩ সালে টাস্ক ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন ল’ অ্যান্ড জাস্টিস সরকারের নিযুক্ত বিচারপতিদের সরিয়ে বিচার বিভাগকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা শুরু করেন।
ফলে তৈরি হয় সংঘাতের পরিস্থিতি। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ঠ প্রধান বিচারপতি শভিয়েচকোভস্কির থেকে নানা প্রশাসনিক সংস্কারে বাধা পাচ্ছিল টাস্ক সরকার।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি টাস্ক সরকার ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট এবং তার সহকারীর উপর থেকে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে। আর তার পরেই ঘটল এমন ঘটনা।
-এমএমএস