আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ এএম
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২১০ কোটি ডলারের এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার ভাষায়, যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের প্রয়োজন ‘এখনই’।
চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিরোধের পর সর্বশেষ এ পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সংগ্রহের চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর এ বিরোধের সূত্রপাত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দাম পড়বে ২১০ কোটি ডলার (১৬০ কোটি পাউন্ড)। ইউরোপ ও কানাডার মিত্র দেশগুলো এতে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে।
গতকাল শুক্রবার রাতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ দ্রুত করার আহ্বান জানান। রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর একমাত্র অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় প্যাট্রিয়টকে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও দীর্ঘ সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৬০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়।
শুক্রবারের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ‘এই প্রস্তাবিত বিক্রয় ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে কাজ করা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের মাধ্যমে ইউক্রেন এ ক্রয়ের অর্থ পরিশোধ করবে। এ অর্থায়ন আসবে জাম্পস্টার্ট কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের আওতায় বরাদ্দ করা জাতীয় তহবিল থেকে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ‘প্রধান ঠিকাদার’ হিসেবে কাজ করবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ বিক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।’
এদিকে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা। এ প্রতিবাদে তারা আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকে লাভরভকে উদ্দেশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি একটি কথা বলতে চাই-এই যুদ্ধে আগ্রাসী কে, তা আমরা সবাই জানি।’ ইউক্রেনে নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য তিনি রুশ সরকারকে অভিযুক্ত করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেলেনস্কি বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন পেতে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের জন্য প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে স্বাগত জানান জেলেনস্কি। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের ‘এই মুহূর্তেই’ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শীত আসার আগে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করছে রাশিয়া। গত দুই সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশে’ ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনের জন্য এসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত জরুরি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট তৈরি হয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সময়সূচি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্রয়াদেশের আওতায় পুরোনো মজুত থেকে নয়, বরং নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে। ফলে ইউক্রেনে দ্রুত এসব ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের দনবাসের কিছু অংশ দখল করে নেয় মস্কো। ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। সূত্র: বিবিসি।
এমআর