Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ভারতে নতুন নীতি: আন্দোলনে জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সহিংস উপায়ে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য রয়েছে—এমন আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে।  

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল বুধবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়োগ ও জনবল বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ নতুন নির্দেশনা জারি করেন। 

এতে বলা হয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের নিয়মগুলো নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, করপোরেশন, কাউন্সিল ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী এমন সংগঠনের সদস্য হলে, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য সহিংসতার মাধ্যমে বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করা, তাহলে তাকে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। এছাড়া ২১ বছর বয়স পূর্ণ করার পর চরিত্র যাচাইয়ের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে, তিনি এখনো ওই কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হতে পারে। 

তবে সংশ্লিষ্ট সময়ের মধ্যে তার আচরণ ও মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা বিবেচনা করতে পারবেন কর্তৃপক্ষ।

যোগী সরকারের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর বা পুলিশের তদন্ত চলমান থাকলেও শুধু সেই কারণে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা হবে না। 

এছাড়াও নতুন নীতিমালায় হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করে চাকরি পেলে নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া ঠেকাতে চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে নিয়োগপত্র দিতে পারবে। পরে কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। 

সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীর বলেছেন, ‘এ ধরনের নির্দেশনা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বাধীন ভারতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানোও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ’।

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি নির্দেশনাটিকে অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছেন। 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, নাকি আদালতের। সাম্প্রতিক তরুণদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে নীতিমালার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, যারা সহিংসতার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলো ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-সহ তরুণ সংগঠনগুলো বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর প্রদেশে সরকারের নতুন নির্দেশনাটি এমন সময়ে এলো। 

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে


এমএইচআর