আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে এ বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ইঙ্গিতের মধ্যেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি নির্বাচনের পর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার দিকে ঝুঁকছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য এই অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটিকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ দেওয়া।
এদিকে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইসরায়েলে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমানও সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী মাসে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরির বহর এবং মেরিন সেনাদের একটি ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।
তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউস চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি।
সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মার্কিন প্রশাসন বলেছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন।
অন্যদিকে নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
রানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আনাদোলু, ডন
এমএইচআর