Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় নৌ-মাইন বিস্ফোরণে তিনটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত পায়। এতে জাহাজগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।’

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ‘জাহাজগুলো তাদের রাডার ও নৌ-চলাচলসংক্রান্ত সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। এ ছাড়া ইরানের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও তারা উপেক্ষা করে।’

তবে জাহাজগুলোর নাম, পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের ঘটনা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জায়নি আইআরজিসি।

এদিকে এই ঘটনার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার দাবি নিয়ে উপহাস করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল হোসেইন মোহেবি। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কোনো বিবৃতির মাধ্যমে নয়, বরং তথ্যপ্রমাণ দিয়ে হরমুজের মাইন অপসারণের দাবি প্রমাণ করুন। হরমুজ প্রণালির বাস্তবতা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রে সংঘটিত হয়– সাইবার জগৎ বা আমেরিকার গণমাধ্যমের যুদ্ধকক্ষে নয়।’ 

এরআগে গত ১৪ অক্টোবর পৃথক ঘটনায় দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার তথ্য জানায় আইআরজিসি। এর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ নৌমাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ ২ হাজার ৮২৪ কন্টেইনার ধারণক্ষমতার একটি ছোট জাহাজ। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য জাহাজটি এই অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইওএম) জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরমুজে হামলার শিকার হয়ে অচল হয়ে পড়েছিল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ অ্যান্টিগা ও বারবাডোজের পতাকাবাহী জাহাজটি। 

প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা


এমএইচআর