আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
স্পেনের ছিটমহল সেউটায় আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বাংলাদেশিসহ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার মোট ১৬ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের সীমান্ত পেরিয়ে সেউটায় প্রবেশের ঘটনার পর ছিটমহলটি থেকে এ ধরনের প্রথম বহিষ্কারের ঘটনা এটি।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মরক্কো তাদের গ্রহণ করতে সম্মত হওয়ায় অভিবাসীদের দলটিকে দেশটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো মরক্কোর ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন। তবে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের সংখ্যা বা জাতীয়তা প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।
সেউটায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী অভিবাসী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বহিষ্কৃত ১৬ জনের মধ্যে সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মতে, এভাবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে মরক্কোতে অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয় এবং সেখানে তাদের কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
তাদের মতে, এ পদক্ষেপ স্পেনের বামপন্থি সরকারের ঘোষিত মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “স্পেনের অবস্থান ভণ্ডামিপূর্ণ।”
তিনি বলেন, ইউরোপ প্রগতিশীল অবস্থানের কথা বললেও স্পেন সেউটা ও মেলিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষের মানবাধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। মরক্কোও বহু মানবাধিকারকে সম্মান করে না।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এখনো কোনো জবাব দেয়নি।
স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থার মতে, অভিবাসীরা জুলাই মাসে শুধু সাঁতরে সেউটায় প্রবেশ করেননি। বরং উত্তর মরক্কো থেকে তাদের যাত্রা সহজ করতে একটি সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমএইচআর