আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ২০০ মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভিই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে টলেডো প্রদেশের উরদা ও লস ইয়েবেনেস এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আঞ্চলিক কাস্তিয়া-লা মানচা টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ট্রেনের দুটি বগি রেললাইনের পাশে পড়ে আছে। আশেপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে ট্রেনের ভাঙা প্যানেল ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
🔴 #ÚLTIMAHORA | Esta es la situación ahora mismo en la zona del accidente con la Guardia Civil rescatando a cientos de heridos. El choque ha sido bestial y la cifra de fallecidos es muy superior a la que cifra el Gobierno. https://t.co/K7zOBwmi16
— Vito Quiles 🇪🇸 (@vitoquiles) October 28, 2026
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা- এডিআইএফ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি উচ্চগতির রেল অপারেটর ইরিও-এর দুটি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষে ঘটনা। ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাচ্ছিল। একই লাইনে চলার সময় রেনফে ট্রেনটি ইরিও ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইরিও ট্রেনের দুটি বগি সম্পূর্ণ লাইনচ্যুত হয়ে পাশে ছিটকে পড়ে।
সংস্থাটি আরও বলছে, সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্র এস্তের পাদিলা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পাদিলা আরও জানান, ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলে একাধিক দমকল কর্মী, তিনটি হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত মোবাইল মেডিকেল ইউনিটসহ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘টোলেডোর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমি পরিবহন মন্ত্রী এবং কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। জরুরি পরিষেবাগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশটির আদামুজ এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। একই রেল লাইনে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
সূত্র: রয়টার্স, ফাস্টপোস্ট
এমএইচআর