Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

সৌদিকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করবে পাকিস্তান: খাজা আসিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ‘পূর্ণ শক্তি’ নিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। 

তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার মতোই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও ইসলামাবাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। 

হুথিদের ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির তেহরানে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

ওই বৈঠকে চার দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়। খাজা আসিফ বলেন, ‘সৌদি আরবকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে সৌদি আরবকে রক্ষা করব।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রিয়াদকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে ইসলামাবাদ।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা যেমন আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও আমাদের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

এ সময় একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি দেশ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে যে চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো হুমকি দেখা দিলে তারা যৌথভাবে তার মোকাবিলা করবে।

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এখন তিনটি দেশ চুক্তির মাধ্যমেও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা একে অপরের ভূখণ্ড রক্ষা করব।’

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের তেহরান বৈঠক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। বৈঠকটি হুতিদের হামলা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তার ধারণা, এই উদ্যোগ মূলত সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় এসেছে। এটি এমন নয় যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

তেহরানে সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টার ফলে এ উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা এবং পবিত্র দুই মসজিদ—মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির ওপর হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরানসহ নিরাপত্তা কাঠামোর আওতাভুক্ত অন্যান্য দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছেছি, যা এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে পারে।’

আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান খাজা আসিফ। তবে ইরান ও আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর বিবৃতি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো ‘ফল দিতে শুরু করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

-এমএমএস