Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মক্কায় বাংলাদেশি ‍যুগলের চুম্বনের ভিডিও করা ভারতের সেই যুবক কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ এএম

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক-যুবতীর চুম্বনের ভিডিও করার ঘটনায় জড়িত ভারতের মুর্শিদাবাদ রাজ্যের সাহাবুদ্দিন শেখ নামের এক যুবক সৌদির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২৩ সাল থেকে তিন বছর ধরে কারাগারেই রয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ পেশায় অভিবাসী শ্রমিক। অনেক দিন ধরে তিনি সৌদিতে বসবাস করেন। মক্কায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় তার উপস্থিতিতেই নাকি বাংলাদেশি যুগল পরস্পরকে চুম্বন করেন। সেই সময় এই যুবক মোবাইল দিয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন এবং পরে তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিও। পরে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

মুর্শিদাবাদে থাকা তার পরিবার জানিয়েছে, নিছক মজা করার জন্য ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরিণাম যে এতটা ভয়াবহ হবে তা আঁচ করতে পারেননি সাহাবুদ্দিন এবং তার সঙ্গীরা। সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেন, ‘ও বড় কোনও অপরাধ তো করেনি। একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে!’

তিনি জানান, গত আট বছর ধরে সৌদিতে তার ছেলে কাজ করছিলেন। পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থেই তাদের সংসার চলত। এখন কোনোমতে টেনেটুনে তাদের সংসার চলছে। 

বাংলাদেশি যুগলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কোহিনুর। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের কী হবে জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি।’

সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, তাকে সৌদির জেল থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু উত্তর মেলেনি।

উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির এবং সুইটি আখতার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভিতরে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা’।

দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, তাদের মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদির সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এফএ