Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কিশোরীকে চুম্বন করার ‘শাস্তি’, নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হল বাবা-ছেলেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ, তার বাবা ও এক বন্ধুকে মারধর করে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা-মা ও মামাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) কলকাতার সরশুনা থানাধীন বেহালা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

পুলিশের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ওই তরুণ তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তরুণের সঙ্গে কিশোরীর চুম্বনের ঘটনা কিশোরীর মামার এক পরিচিত ব্যক্তি দেখে ফেলেন। পরে তিনি কিশোরীর বাবা ও মামাকে বিষয়টি জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর কিশোরীর বাবা ও মামা দুই তরুণকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মারধর করা হয় এবং তরুণের বাবাকে ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি পৌঁছানোর পর তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। পরে বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয় তিনজনকে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এদিকে সোমবার সকালে এ ঘটনায় সরশুনা থানায় মামলা করেন তরুণের বাবা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায়  হত্যাচেষ্টা, মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ধারাও যোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোরীর বাবা অভিযুক্ত প্রদীপ, মামা রাহুল এবং কিশোরীর মা রিঙ্কু সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজতে অভিযান চলছে। 

এছাড়াও ভুক্তভোগীদের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বন্দুকের কথা বলা হলেও পুলিশ এখনো সেটি উদ্ধার করতে পারেনি। তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

অন্যদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের একাংশ কিশোরীর পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি

এমএইচআর