Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানে বড় হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পার অংশ হিসেবে আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-এ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু শক্তিচালিত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পরিদর্শনের সময় বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত এবং যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে দেখেছেন সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিক শেলবি হলিডে।

তিনি জানান, এই বিমানবাহী রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের নাবিকরা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বাঙ্কার-বাস্টার বোমাসহ বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র বোঝাই করতে দেখছেন। এসব বোমা মাটির গভীরে থাকা বা শক্তভাবে ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনায় আঘাত হানার জন্য তৈরি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হলে যেন দ্রুত সামরিক অভিযান চালানো যায়, সে জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

শেলবি হলিডে আরও জানান, অস্ত্র মজুতের পাশাপাশি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-এ মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ওঠানামা ও ফ্লাইট অপারেশন জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু হতে পারে এবং সেই পরিস্থিতির জন্য ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে। তবে নিরাপত্তার কারণে আরব সাগরে রণতরীটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

এরআগে গত ১৫ অক্টেবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ফের ইরানে হামলা শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী। পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে। এসব স্থাপনায় হামলার কার্যকারিতা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। 

এমওএবি নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড বা ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাকে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

এমওএবির বিস্ফোরণে বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র চাপতরঙ্গ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ গভীর স্থাপনা, সুরক্ষিত বাংকার কিংবা শক্তিশালী কংক্রিটের নিচে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণেই বোমাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত। 

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কোনো হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোতে কঠোর হামলা চালানো হবে।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, গালফ নিউজ


এমএইচআর