আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিকারক দেশ কাতার এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই গ্যাস কিনছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে কাতারের গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস কেনার চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং চেনিয়ের এনার্জির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক ফুসকো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কিনবে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাবিন পাস এবং টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি রফতানি টার্মিনাল থেকে এ গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
চুক্তিতে গ্যাসের দাম যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি হাব প্রাকৃতিক গ্যাসের বেঞ্চমার্ক দামের সঙ্গে নির্ধারিত তরলীকরণ ফি যোগ করে হিসাব করা হবে।
কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এ চুক্তির মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক গ্যাস সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং বিশ্ববাজারে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়বে।
প্রসঙ্গত, একসময় বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলোর অন্যতম ছিল কাতার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে ইরানের হামলায় দেশটির রাস লাফান গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্রের দুটি উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কাতারের বার্ষিক এলএনজি রফতানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছেন, রাস লাফানের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট দুটি মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কাতারের গ্যাস রফতানি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কাতারের এলএনজি রফতানির বড় অংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা—দুই সংকটই দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের তথ্য বলছে, সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কাতারএনার্জি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে স্পট মার্কেটে এলএনজি কিনেছে।
গত জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মতো গ্রাহকদের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৩টি এলএনজি চালান কিনেছিল কাতারএনার্জি।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেঞ্চার গ্লোবাল কোম্পানির কাছ থেকে বছরে অন্তত ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে কাতারএনার্জি। এছাড়া উডসাইড এনার্জির লুইজিয়ানা প্রকল্প থেকেও বছরে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব অতিরিক্ত চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এমএইচআর