Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জামাতার সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে গোপন লেনদেনের তথ্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গোপনে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ার-এক প্রতিবেদনে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের আগামী বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’ থেকে নেওয়া একটি অংশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদন বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা ২০১৮ সালে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা থাকাকালীন কুশনারের আইফোন হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্য পান। ওই অ্যাকাউন্টে আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ এসেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বইয়ে সাংবাদিক ম্যাথু কোল দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত দাতব্য সংস্থা- ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশনের নামে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে আজারবাইজান থেকে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল। কুশনার ওই অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষরদাতা ছিলেন। তবে তিনি ওই অ্যাকাউন্টের মালিক ছিলেন না। অ্যাকাউন্টেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই এবং ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদের তত্ত্বাবধানে ছিল।

2

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এমন একটি তহবিল গঠনের ধারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করা সম্ভব হতো। 

সাংবাদিক কোল দাবি করেন, পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হলেও কুশনারের জন্য দুটি হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার জমা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে কুশনারের আরেকটি অ্যাকাউন্টে ১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার জন্য কুশনারকে উৎসাহিত করেছিলেন। 

এদিকে জ্যারেড কুশনার এবং তার আইনজীবী এই অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এসব দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং ‘কখনো ঘটেনি’।”

অভিযোগের পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি, হিসাব নম্বর বা লেনদেনের তারিখ প্রকাশ করা হয়নি উল্লেখ করে কুশনার আরও বলেন, ‘এগুলো জঘন্য মনগড়া কাহিনী, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা সাংবাদিকতা নয়। এটি কল্পনা, কল্পকাহিনী এবং পক্ষসমর্থনের এক মিশ্রণ, যা এমন কেউ লিখেছে যে হয় মানসিকভাবে গভীরভাবে অসুস্থ অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছে’।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের নজরদারি, কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এসব তদন্তে তিনি স্বেচ্ছায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন। 

কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও মানহানিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোর সঙ্গে কুশনারের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন চ্যাড। 

এদিকে ডাচ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: ভ্যানিটি ফেয়ার, এনডিটিভি 


এমএইচআর