Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

দুই দিনের সফরে ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই দিনের ভারত সফরে মঙ্গলবার মুম্বাই পৌঁছেছেন। তার এ সফরে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পশ্চিম ভারতের মুম্বাই ও জামনগরে দুই দিনের এই সফরে রুবিও ভারতের সরকারি ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। খবর রয়টার্সের।

এদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও বিলিয়নিয়ার মুকেশ আম্বানি, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স পরিচালনা করে।

সফরের কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি এখন একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।

রুবিওসহ দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, একটি সামগ্রিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে তার সফরের সময় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার ট্রাম্প রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য পদক্ষেপ থেকে সরে আসেন। 

সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি আইন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারী শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। এ তালিকায় চীনের পরেই ভারতের অবস্থান।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— উভয় দলের কয়েকজন নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো।

রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা শুল্ক মওকুফের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। তবে দেশটি এখনও প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনছে। 

এ বিষয়ে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, তা বিবেচনায় নিতে মার্কিন প্রশাসন ৬০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

রোববার রুবিও বলেছেন, ভারতের মতো দেশগুলো স্বেচ্ছায় জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে। তবে রাতারাতি বিকল্প উৎসে সরে যাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ভারতকে রুশ তেল আমদানি কমানোর জন্য চাপ দিলেও গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি করেছে। 

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ চুক্তি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রুশ তেল আমদানির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের রুশ তেল আমদানি নিয়ে রুবিও বলেন, প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে জটিল বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দেশের পক্ষে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন।

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি সচল রাখতে দেশটির অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়।

এর আগে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের সমরকন্দে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রুবিও। সেখান থেকে তিনি মঙ্গলবার মুম্বাই যান।

-এমএমএস