Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

প্যারিস খুব শিগগির মুসলিম শহরে পরিণত হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগিরই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে।

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর সিএনএন ও আল-জাজিরার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। 

এটি অভিবাসনের সমস্যা। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছি, আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিন।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নিজের কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে দেশটি বড় ধরনের ভুল করছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা বিশ্বের সবাইকে ভেতরে আসতে দিচ্ছেন। পুরো পৃথিবীই যেন ভেতরে চলে আসছে।’

trmp

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ যদি সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে না দেয়, তাহলে মহাদেশটির সর্বনাশ হবে।

সপ্তাহান্তে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রচারের সময় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্যের কিছুতে জাতিগত ভীতি উসকে দেওয়া এবং মিথ্যা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন শহরে রাতের বেলা কারফিউ জারি করা হয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

দেশটিতে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক'শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।

চলমান আন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। 

বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। 

মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ অন্যান্য শহরেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। 

তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও করবে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

এদিকে দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো।

-এমএমএস