Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ থেকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কে এই আখলাঘি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সমরাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি।

রোববার ৬৮ বছর বয়সী আখলাঘির নিয়োগ অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্ট। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনলাইনে ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশন হচ্ছে। নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে আখলাঘির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর দিনই দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। একই দিনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ আরও অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নিহত হন। এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করছিলেন মাজিদ ইবনে রেজা। এখন তিনি আখলাঘির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আখলাঘির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এরই মধ্যে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্তৃপক্ষ, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব থাকবে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করবে না। তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বশক্তি দিয়ে, এমনকি জীবন দিয়ে হলেও, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

প্রেসিডেন্ট জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে আখলাঘির ৪২ বছরেরও বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্র হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত প্রপালশন প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক-শিল্প উৎপাদন।

এর আগে তিনি শাহিদ বাকেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন এবং ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আখলাঘি ও এসব প্রতিষ্ঠান। তিনি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞারও আওতাভুক্ত।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আখলাঘি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সেজ্জিল ও জোলফাঘর পরিবারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আলমাস ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়াসিন গাইডেড বোমার মতো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নেও আখলাঘির ভূমিকা ছিল।

মহাকাশে উৎক্ষেপণযান, গবেষণামূলক রকেট এবং সেমনানের ইমাম খোমেনি স্পেস সেন্টার-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কেও তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে বলে জানা যায়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে এসব প্রযুক্তি ও অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

চলতি মাসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক সাংবাদিকদের বলেন, আখলাঘিকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে কৌশলগত অস্ত্রের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাই প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক-শিল্প সক্ষমতার বেশিরভাগই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলার নাগালের বাইরে এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা রয়েছে।

ইরানের বক্তব্য, চলমান যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব অস্ত্রের সক্ষমতা আরও উন্নত করা হয়েছে।

চলতি মাসে পার্লামেন্ট সদস্যদের আখলাঘি জানান, যুদ্ধ চলাকালে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীর চাহিদা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার জন্য তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিও ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক-শিল্পের দ্রুত বিকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ। সূত্র: আল জাজিরা।

এমআর