আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সশস্ত্র বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টা) কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এটি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কীভাবে এর সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
নিহত চার সেনা হলেন- সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকেমার্ক।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না।
রোববার অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার ভূখণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সাহসী সদস্যকে আমরা হারিয়েছি, তাদের জন্য পুরো জাতি শোকাহত।’
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওয়েনরাইটের মেয়র ব্রুস পিউ বলেন, আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা অবস্থান করছেন।
সামরিক প্রশিক্ষণের সময় আগুনের সূত্রপাত
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের জানান, পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা একটি গ্রেনেড রেঞ্জ ও আক্রমণ প্রশিক্ষণ এলাকায় উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় তারা প্রকৃত গোলাবারুদ ব্যবহার করছিলেন। আক্রমণ প্রশিক্ষণ এলাকায় ১০ জন সেনা একটি কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণের অনুশীলন করছিলেন।
রাটল্যান্ড বলেন, ‘ওয়েনরাইট প্রশিক্ষণ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছিল।’ এর মধ্যে ছিল গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড, হালকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, প্রশিক্ষণ এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি ঘাসের মাঠে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে আগুন দ্রুত প্রশিক্ষণ এলাকার আক্রমণ অংশের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
রাটল্যান্ড বলেন, ‘প্রশিক্ষণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে একাধিক সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দিক পরিবর্তন করে প্রশিক্ষণ এলাকার প্রশাসনিক অংশের দিকে এগিয়ে যায়।’
মেয়র ব্রুস পিউ বলেন, ঘাঁটি থেকে কামান নিক্ষেপের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে হঠাৎ সেই শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ওই ঘাঁটিতে কামান নিক্ষেপের শব্দ শোনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এরপর খবর আসে, স্থানীয় জরুরি সেবাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীরা সারা রাত আগুন নেভাতে কাজ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, আহত ব্যক্তিরা আক্রমণ প্রশিক্ষণ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য এবং প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়ার কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সেনারাও রয়েছেন।
রোববার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
রাটল্যান্ড বলেন, ‘আমরা মনে করি না, এ ঘটনার সঙ্গে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিংবা বাইরে থেকে কেউ এতে হস্তক্ষেপ করেছে।’ সূত্র: বিবিসি।
এমআর