আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
জীবনযাত্রার চরম মান অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রভাবশালি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন 'তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন', বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং দেওয়ানি সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে শনিবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তিউনিসের প্রধান সড়ক হাবিব বুর্গুইবা এভিনিউতে তিন হাজারের বেশি মানুষ একত্রিত হন। গত কয়েক বছরে নানা মতভেদে বিভক্ত বিরোধী দলগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে কাইস সাঈদের একচ্ছত্র শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শ্রমিক, অধিকারকর্মী ও বেকার তরুণসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই মিছিলে অংশ নেন। শত শত পুলিশ পুরো রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুললেও আন্দোলনকারীরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘স্বাধীনতাহীন কোনো গণতন্ত্র হতে পারে না’ এবং ‘দারিদ্র্য নিয়ে কোনো আত্মমর্যাদা হয় না’। অনেকে ২০১১ সালে তিউনিসিয়ার ঐতিহাসিক আরব বসন্তের সময় উচ্চারিত সরকার পতনের স্লোগানও পুনরায় উচ্চারণ করেন।
সমাবেশে ইউজিটিটি নেতা সালাহ উদ্দিন সালমি প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "আর চুপ করে বসে থাকা গ্রহণযোগ্য হবে না।"
২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট জাইন এল আবেদিন বেন আলির পতনের পর তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হলেও দেশে স্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব রয়েই গেছে। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালে সংসদ স্থগিত করেন এবং ২০২২ সালে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন কাইস সাঈদ।
তবে সাঈদের এই পদক্ষেপের পরও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তিউনিসিয়াজুড়ে বর্তমানে পানির সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধ ও জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট ও গত মাসেও জ্বালানি পরিবহন খাতের শ্রমিকরা বেতন ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেন।