Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

স্কুলের ছাদ ধসে পাকিস্তানে শিক্ষার্থীসহ নিহত ২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

পাকিস্তানের পেশোয়ারে আল খাইর স্কুল নামে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিক্ষার্থীসহ ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ১৩ বছরের নিচে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর দ্য ডনের।

লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ‘ডন’ পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে—যাদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন।

জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ২৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ প্রায় ২০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে সময় হাসপাতালের বরাত দিয়ে তিনি চারজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এর আগে সংস্থাটি জানায়, ১০ জনের বেশি শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ‘ডন’-কে জানান, ‘আল খাইর স্কুল’-এর ছাদ ধসে পড়লে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা পড়ে। তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল।

পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ছাদ ও ভবনধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। 

তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়।

pakistan

এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু প্রাণ হারায়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজি খানের একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।

ডেরা গাজি খানের ওই দুর্ঘটনার তদন্তে দেখা যায়, কোচিং সেন্টারের ভবন সম্প্রসারণের কাজ চলার সময় শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে পড়ে।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় পাকপাত্তানে একটি বাড়ির ছাদ ধসে দুজন নিহত হন।

গত আগস্টে টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টির পর ইসলামাবাদের শাহজাদ টাউনে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক দম্পতি নিহত হন। এ ঘটনায় তাদের মেয়েরা আহত হয়।

-এমএমএস