আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে প্লাস্টিকের নীল ড্রামে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় বহুল আলোচিত ‘ব্লু ড্রাম’ হত্যা মামলায় স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রায় ১৯ মাস ধরে ১২৬টি শুনানি ও ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর মিরাটের জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র এ রায় ঘোষণা করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুসকান ও সাহিলকে হত্যা এবং অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন আদালত। বুধবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিদের প্রত্যেককে ৭০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন।
রায় দেওয়ার সময় আদালত মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেওয়াও এক ধরনের ‘ধর্ম’।”
পুলিশ ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রনগরে নিজের বাড়িতে সৌরভকে হত্যা করেন মুসকান ও সাহিল। ওই দিন মুসকান প্রথমে সৌরভের খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে দেয়। সৌরভ অচেতন হয়ে পড়লে সাহিলকে ডেকে নিয়ে দুজনে মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
প্রমাণ লোপাটের জন্য বাথরুমে নিয়ে তারা সৌরভের মরদেহ ১৫টি টুকরো করে। এরপর দেহাংশগুলো একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে সিমেন্ট ও বালু মিশ্রণ দিয়ে ঢালাই করে সিল করে দেয়, যাতে কোনো দুর্গন্ধ না বের হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনের নাটক শুরু করে। সৌরভ নিখোঁজ রয়েছে এমন একটি আবহ তৈরি করে তারা দুজনে হিমাচল প্রদেশে ঘুরতেও চলে যায়, যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসার কাজে বাইরে আছেন—এমন ‘নাটক’ তৈরি করতে মুসকান তার স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের মেসেজ পাঠাতেন। সন্দেহ হওয়ায় ১৭ মার্চ স্বজনরা স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে ওই বাসভবনে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের জানায়, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’
পরে পুলিশ মুসকানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেই ‘নীল ড্রাম’ উদ্ধার করে। ড্রামটি কাটার পর ভেতর থেকে সৌরভের গলিত দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশি তদন্তের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সৌরভ ও মুসকানের বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালে। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২৯ বছর বয়সী সৌরভ রাজপুত পেশায় একজন মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থায় কর্মরত থাকায় বছরের বড় একটি সময় তাকে লন্ডনে কাটাতে হতো।
এদিকে মিরাটে বসবাসরত তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার স্কুলের সময়ের পুরনো বন্ধু সাহিলের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তাদের এই অবৈধ সম্পর্ক গভীর হতে থাকে।
একপর্যায়ে সৌরভ বিষয়টি টের পান এবং এর তীব্র বিরোধিতা করেন। মুসকান ও সাহিল বুঝতে পারে যে সৌরভ বেঁচে থাকলে তাদের এই সম্পর্ক স্থায়ী রূপ পাবে না এবং সৌরভের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তারা ভোগ করতে পারবে না। এই লোভ থেকেই তারা সৌরভকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ঠান্ডা মাথার এক নীল নকশা তৈরি করে।
মুসকানের বাবা-মাও আদালতকে বলেছিলেন, সৌরভ অনেক ভালো মানুষ ছিলেন এবং দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তারা আপত্তি করবেন না।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমএইচআর