আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
মাঝ-আকাশে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কায় জার্মানি থেকে দিল্লিগামী বিমানকে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হল রাজস্থানের জয়পুরে।
বিমানে বোমা রাখা আছে, ছিনতাইও হতে পারে— এমন একটি খবর রটতেই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
তার পর সেটিকে জয়পুরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২০৩০ বিমানটি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে উড়েছিল। গন্তব্য ছিল দিল্লি। কিন্তু মাঝ-আকাশে ছিনতাইয়ের খবর রটতেই হুলস্থুল পড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পুর বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের গুজব রটেছিল। বোমাতঙ্ক নয়। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয় বলেই জানান তিনি।
তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বিমানটি যখন ভারতের আকাশে প্রবেশ করে, সেই সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বার্তা দেওয়া হয়। তার পরই বিমানটিকে জয়পুরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়।
বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়েছে। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেটিকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ফ্লাইটরেডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে স্থানীয় সময় ১৩ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টায় ওড়ে বিমানটি। দিল্লিতে পৌঁছোনোর কথা ছিল ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে।
অহমদাবাদ ট্রাফিক কন্ট্রোল সকাল ৯টা নাগাদ জরুরি সিগন্যাল পায় বিমান থেকে। সেটি ৯ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল। তার পরই বিমানটিকে ৯টা ১০ নাগাদ জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ সেটি অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হামামের বিরুদ্ধে।
ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর হামলা চালান সহ-পাইলট। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান। বিমানটিকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের শেষ শক্তি দিয়ে সহ-পাইলটকে আটকান। ককপিটের ভিতরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। কোনও রকমে ককপিট খুলে দেন স্মিত।
তার পর যাত্রীরাই সহ-পাইলট টেনে ককপিট থেকে বার করেন। বিমানে ১৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা বিশ্ব। ক্যাপ্টেন স্মিত বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হন তার সাহসিকতা এবং এতজন যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য।
সেই ঘটনার রেশ এখনও ফিকে হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা ছড়াতেই হুলস্থুল পড়ে যায়।
-এমএমএস