আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে সম্ভবত একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। তিনি স্বীকার করেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে– এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে।
খবর আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আইয়ের।
ওহাইওর ইয়ংসটাউনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো ইরানের নেতাদের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি।
কারণ সত্যি বলতে, আমরা এখন আর বুঝতেই পারছি না যে কার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। সত্যি কথা বলতে, কার সঙ্গে চুক্তি বা আলোচনা করতে হবে, তা বের করতেই আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হয়, আমরা একটু বেশিই দূরে চলে গেছি।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ‘এখন আর কেউ ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ট্রাম্প তার সামরিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে পুনরায় দাবি করেন, ইরান তার পুরো বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি নৌজাহাজের সবকটিই হারিয়ে ফেলেছে। জাহাজগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে খুব সুন্দরভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে।
আবার ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে রাশিয়া ও চীন সহায়তা করছে– এমন খবর উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারা যদি সাহায্য করেই থাকে, তবে সেটি অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ের। তবে আমি একদমই বিশ্বাস করি না যে তারা কোনো সাহায্য করছে। কারণ, এতে তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে এবং তারা সাহায্য করলে সেটি আমরা খুব দ্রুতই জেনে যেতাম।’
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। এমন আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করছে ইরান। এর সঙ্গে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোয় স্থল হামলার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে হামলার শিকার হলেই প্রতিবেশী দেশগুলোয় স্থল হামলার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের চরমপন্থি রাজনীতিবিদরা।
এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারীদের ইরান সতর্কতা দিয়েছে, এবার যুদ্ধ শুরু করা হলে ইরানের জবাব আরও আগ্রাসী হবে। যার মধ্যে থাকবে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
এদিকে কোন দেশে ইরান সরাসরি সেনা পাঠাতে পারে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। তবে তাদের সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের অবরোধ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো একটি নতুন শাটল ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আরবদের এই তেল পরিবহন এখন ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু।
এআরএম