আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
ইয়েমেন সরকারের একজন কর্মকর্তা ফায়াদ আলনোমান বলেছেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি জ্বালানি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। ওই এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল জোট।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়াও সানায় হামলার কথা স্বীকার করে জানান, তাদের বাহিনী এর জবাব দিচ্ছে।
হুতিদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, সানার পশ্চিমে আল-সাবাহা এলাকায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
হামলার আগে সৌদি জোটের যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সানার আল-সাবাহা এলাকার কেন্দ্রীয় জ্বালানি স্টেশন খালি করার নির্দেশ দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বেসামরিক নাগরিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বলা হয়।
আলজাজিরা জানিয়েছে, হামলার পর সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা জ্বালানি স্থাপনাটির কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সানার পাশপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর হোদেইদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত তেল বন্দর ও সামুদ্রিক টার্মিনাল রাস ইসাতেও হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
এদিকে সানায় হামলার জবাবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া বলেছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও একই ধরনের হামলার মাধ্যমে কঠোর ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে; কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাজধানী রিয়াদের দুটি তেল শোধনাগার।
এসব স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আলজাজিরা বলছে, হুতিরা এখনো কোনো হামলা চালায়নি, কিন্তু শিগগিরই পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই এই স্থাপনাগুলোর কর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এমএইচআর