আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে একটির যাত্রীবাহী ট্রেনের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে করাচি থেকে পেশোয়ারগামী রহমান বাবা এক্সপ্রেস মুলতানের শের শাহ ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খবর পেয়ে পুলিশ, উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ট্রেনের বগিগুলো লাইন থেকে ছিটকে পড়ায় যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় নিশতার হাসপাতালে পাঠান উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধার কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১৪টি বগির মধ্যে ১৩টির উদ্ধার ও সরানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। বাকি একটি বগিতে উদ্ধার অভিযান চলছিল। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছিল।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে দুর্ঘটনার পর একটি যাত্রীর বক্তব্য নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ওই যাত্রীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে রোহরির কাছে ট্রেনের নয় নম্বর বগির নাট-বল্টু মেরামত করেছিলেন কর্মীরা।
এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
দেশটির রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসিও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। উদ্ধার কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত ও আহত যাত্রীদের রেলওয়ের বিমা নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে রেল দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়, প্রায় দেশটি বিভিন্ন কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে। এরআগে ২০২৩ সালের আগস্টে দেশটির সিন্ধু প্রদেশের নওয়াবশাহের কাছে হাজারা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৩০ জনের প্রাণ হারান এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হন। সেই দুর্ঘটনার পর দেশটির রেলপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুরোনো সংকেতব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এমএইচআর