আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাদের মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
গত শনিবার হুথিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন। তার ভাষ্য, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের কর্মীদের এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এসব স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

এইদিকে বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে পথ পরিষ্কার করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কিছু বিমানবন্দরে আঘাত হানে।
কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
এতে সৌদি আরবের ব্যবহৃত মার্কিন প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য সেগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্তের অংশ। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
-এমএমএস