আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ক্ষমতা থেকে না সরানো পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটি আলাদা আলাদা কোনো প্রতিবাদ নয়; সব আন্দোলন একই দাবির অংশ। একটি আন্দোলনই চলছে—জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধেও এই আন্দোলন চলবে। আমরা থামব না।’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং জ্ঞানেশ কুমার স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের চাপের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।
রাহুল বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের উচিত পদত্যাগ করে নির্বাচনী অনিয়মের পেছনে কারা দায়ী, সে বিষয়ে সত্য প্রকাশে সহযোগিতা করা। আমাদের লক্ষ্য শুধু একজন নির্বাচন কমিশনারকে সরানো নয়; বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব আদায় করা’।
দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের চলাচলে বাধা, ব্যারিকেড ও ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনেরও সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা।
তিনি বলেন, ‘রাস্তা আটকে মানুষের মন ও চিন্তাকে আটকে রাখা যায় না। বিরোধীরা রাজপথ দখলের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছে।’
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া জোটের’ প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে।
সোমবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেন। এতে রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরজেডির তেজস্বী যাদবসহ আরও বহু নেতা যোগ দিয়েছিলেন।
তবে পুলিশ তাদের পথ আটকে দিলে পরে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে আদালতে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন আইনজীবী এস প্রসন্ন, যেখানে প্রধান ১০টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
জোটের মূল দাবি হলো— ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়াটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা অবিলম্বে স্থগিত করা।
এছাড়াও ভোটার তালিকায় জালিয়াতি ও পদ্ধতিগত ত্রুটি রুখতে আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত ও অডিট কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সব নথি, ফাইলের কার্যবিবরণী এবং ডিজিটাল ডাটাবেজের অ্যাক্সেস লগ আদালতের কাছে তলব করার অনুরোধ করা হয়েছে।
নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় আবেদনে বলা হয়েছে, বুথ-ভিত্তিক যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট কারণসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং পর্যাপ্ত নোটিশ ও শুনানি ছাড়া কারও নাম কাটা যাবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি
এমএইচআর