আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো— রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার ১১ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে যন্তর মন্তরে আগের মতো নির্ধারিত স্থান হিসেবে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না।
অন্যদিকে নতুন তিনটি স্থানে কীভাবে কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিবাদ, নাগরিক আন্দোলন ও বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশের পরিচিত স্থান। সংসদ ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় জায়গাটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিরোধী জোট ইন্ডিয়া এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের তৎপরতা বাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং আটক করার ঘটনাও সামনে আসে।
এই পরিস্থিতিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে।
কর্তৃপক্ষের যুক্তি, বিকল্প স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচল ব্যবস্থাপনা সহজ করা সম্ভব হতে পারে।
তবে সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ চলছে। ফলে এর প্রশাসনিক যুক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে প্রতিবাদী গোষ্ঠীগুলো।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সমস্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থান নিয়ে নয়; বরং নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ নিয়ে’। দলটির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর