আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ এএম
রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনতে যাচ্ছে আমেরিকা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে এই সংক্রান্ত চুক্তি পাকা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং।
আমেরিকা তথা বিশ্ব বাজারে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দামে রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ। ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তাতে খারাপ ফল হলে মার্কিন কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
তাই ভোটের আগে জ্বালানির দাম নিয়ে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। অনেকের মতে, সেই কারণেই ভোটের মুখে তড়িঘড়ি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলের চুক্তি করা হল। তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেন আক্রমণ করার অভিযোগে এবং পূর্ব ইউরোপে যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে ২০২২ সাল থেকে আমেরিকা পুতিনের দেশ থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সেই বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পুতিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টন ডিজেল আমেরিকা ও বিশ্বের বাজারে বিক্রি করবে।
তার পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রাশিয়া পাঠাবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ক্রেমলিনও জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব বাজারে ডিজেলের জোগান দিতে তারা প্রস্তুত।
মার্কিন অর্থ দফতরও রুশ ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রযোজ্য এই অনুমতি শুক্রবার ট্যাংকারে তোলা রুশ ডিজেলের চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি।
ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। শুধু রাশিয়া নয়, তার ঘনিষ্ঠ দেশগুলির উপরেও চড়া হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। অভিযোগ ছিল, ভারতের ওই তেলের টাকা রাশিয়া যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে এবং এভাবে পরোক্ষে ইউক্রেনের ওপর হামলায় ভারত মদত দিচ্ছে।
নয়াদিল্লি অবশ্য প্রথম থেকেই এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে আসছে এবং জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর তাদের বাণিজ্যনীতি নির্ভর করে।
এখন সেই রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকা ডিজেলের চুক্তি করায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। জেলেনস্কি একে ‘পুতিনকে ট্রাম্পের উপহার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকায় গ্যাসোলিন ও ডিজেলের পাম্পে মূল্যবৃদ্ধির সূচক ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে।
এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভোটের মুখে তাতে প্রলেপ দিতেই ট্রাম্প এই চুক্তি করলেন রাশিয়ার সঙ্গে, মত একাংশের।
তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার কারণেও জ্বালানির বাজার বিপুল সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তখন থেকেই জোগান ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। ট্রাম্প সে দিকে না তাকিয়ে কেন রাশিয়ায় মনোনিবেশ করলেন, প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে দুর্বল এবং অযোগ্য’ বলেছেন জেলেনস্কি। তার কথায়, ‘‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না। রাশিয়া আরও সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে এর প্রতিদান দেবে।
ওদের পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া তো যুদ্ধেই বিনিয়োগ করার শামিল। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে প্রকৃত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দুর্বল আলোচনায় লাভ হবে না।’’২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর আমেরিকা রুশ তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির উপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
-এমএমএস