আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন, আগেই জানিয়েছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী।
যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হল। গুরুগ্রাম পুলিশ হিন্দুস্তান টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেছেন ধ্রুব। সিজেপি-র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে কেন্দ্র। শুক্রবার রাত থেকে শহরের ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ।
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী যাবতীয় মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। সেই সঙ্গে রাজধানীর রাস্তা সকাল থেকে পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। রয়েছে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীও। জমায়েত ও প্রতিবাদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে মাইকিং চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সকালেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-র কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে ধ্রুবের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। তাকে যন্তর মন্তরে না-যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। তার পরেই তাকে আটক করা হয়।
ধ্রুবের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের নিন্দা করে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে সিজেপি। লিখেছে, ‘‘ধ্রুব রাঠী আটক। একনায়ক সেই সব তরুণ-তরুণীকে দেখে আতঙ্কিত, যারা তার অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং চুপ করে বসে থাকতে চাইছে না।’’
মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে সকালে রওনা দিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। রাতেই তিনি জানান, দিল্লিতে নামলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
তার ওপর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হতে পারে। কিন্তু জেলের ঘানি টানতে তিনি ভয় পান না। তাকে আটক করা হলে আন্দোলন যাতে থেমে না-যায়, সেই বার্তাও দিয়েছেন দীপকে।
দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশে ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তারা অনুমতি দেয়নি। রাত থেকে সকালের মধ্যে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী। সংবাদসংস্থা পিটিআই ১৫০ জনকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটকের সংখ্যা হাজারের বেশি। এ ছাড়া, জনপথ-কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার রাস্তায় নামছে সিজেপি। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে তারা।
এই সব দাবি সামনে রেখে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দেওয়া হয়েছে। তা ঠেকাতেই পুলিশের প্রস্তুতি তুঙ্গে।
দীপকে একে কটাক্ষ করে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ভয় পেয়েছেন। দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভয় পেলে উনি এখনও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন কেন?
মোদি-শাহ কি দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছেন? মহাত্মা গান্ধীর পথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই তাদের হাতিয়ার, দাবি করেছেন দীপকে।
-এমএমএস