আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম হু হু করে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক নির্বাচনী সমাবেশে এমন দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, আজ তার চেয়েও বেশি তেল এই প্রণালি দিয়ে আসছে।’
তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখনই আপনাদের দাম কমানো শুরু করা উচিত।’
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে আবারও দাবি করেন ট্রাম্প।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা ঘিরে ব্যাপক হামলা চালায় ইরানও। তিন দেশের যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকে তেলের দাম। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো পড়ে বাড়তি চাপের মুখে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা দেয়। এরই মধ্যে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এমআর