আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও আইসিসির সাবেক বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা আসে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। সেই কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সাথে সমস্ত আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন নিষিদ্ধ করব, যাতে তাদের সম্পদ বিচ্ছিন্ন করে কার্যকরভাবে বিচারিক কার্যক্রম অচল করে দেওয়া যায়।’
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু আদালতের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সহায়তাকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলোও বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে। এর ফলে আইসিসির আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মূলত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ তীব্র হয়েছে। গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির আগের তদন্তও ওয়াশিংটনের আপত্তির অন্যতম কারণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া যায় না।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা এবং একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি।
আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামীম খান বলেছেন, ‘এসব নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক কার্যক্রম থামাতে পারবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিচারব্যবস্থা এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, আইসিসি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান। এর সদস্য ১২৫টি দেশ। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করা আদালতটির দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্র নিজে রোম সংবিধির সদস্য নয়।
সুত্র: রয়টার্স
এমএইচআর