Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কলকাতায় মুসলিম কলোনিতে পানি বন্ধ, জাতিসংঘে চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠিটি প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। এতে তিনি বিষয়টিকে কেবল নাগরিক পরিষেবার সংকট নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, উত্তর কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই মুসলিম। গত ২৯ জুলাই থেকে সেখানে নিয়মিত কলের পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে ট্যাংকারের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ফলে তাদের অনিয়মিতভাবে পাওয়া পানি কিংবা গঙ্গার পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিছু পরিবারকে পানি কিনেও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানকে লেখা চিঠিতে সমীরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সেখানকার বাসিন্দারা মুসলমান এবং তাদের বিজেপির তথাকথিত ভোটব্যাঙ্কের অংশ বলে গণ্য করা হয় না।’

তৃণমূলের এই সাংসদ সাংসদ পরিস্থিতিটিকে মৌলিক মানবাধিকারের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাবকে শুধুমাত্র নাগরিক পরিষেবার বিষয় হিসেবে গণ্য করা যায় না।

নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সুবিধাকে মানবাধিকার হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে সমীরুল বলেন, ‘এই সংকট বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং পর্যাপ্ত জীবনযাত্রার মানের অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলেছে’।

চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা বা ছাড় চাননি। তারা তাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি জিনিসের অধিকার চাইছেন।’

দীর্ঘদিন নিরাপদ খাবার পানির অভাবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমীরুল। 

চিঠিতে তিনি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার ব্যবস্থাকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পানির সরবরাহ কেন দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক করা যায়নি, কী ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থায়ী সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

এরআগে জ্যোতিনগর কলোনির কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন সমীরুল ইসলাম। 

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং স্যানিটেশনকে মানবাধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই দীর্ঘদিন পানির সংকট চলতে থাকলে তা শুধু স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়, জনস্বাস্থ্য ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

সুত্র: দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে

এমএইচআর