আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে চালু হওয়া এ সেবাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ও বিশ্বের র্শীষ ধনী ইলন মাস্ক।
বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যেগাযোগমাধ্যম এক্সে স্টারলিংকের একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন স্টারলিংক মোবাইল অ্যাভেইলেভল!’
এরপর আরেক পোস্টে বাংলাদেশে স্টারলিংকের সংযোগ বিস্তারের বিষয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক বাংলাদেশকে সংযুক্ত করছে!’
স্টারলিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলালিংকের মাধ্যমে চালু হওয়া এই সেবায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের কাভারেজের বাইরে থাকা এলাকাতেও সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যাবে।
স্পেসএক্সের দাবি, লাখো গ্রাহক মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও বিভিন্ন অ্যাপে বার্তা পাঠাতে, অবস্থান শেয়ার করতে এবং সংযুক্ত থাকতে পারবেন।
কোম্পানিটির বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেকও বাংলাদেশে সেবাটি চালুর বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘স্টারলিংকের মোবাইল দিয়ে আমরা বাংলাদেশে এখন লাখ লাখ মানুষকে যুক্ত করছি। আমাদের প্রযুক্তি নেটওয়ার্কবিহীন অঞ্চলে বাড়তি কানেক্টিটিভি দিচ্ছে যেন উপকূলীয় জনবসতি, দুর্গম অঞ্চলের ব্যবসা, পরিবার এবং পর্যটকরা যেন সবার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, তারা যেখানেই থাকেন না কেন’।
ডিশনির্ভর প্রচলিত স্টারলিংক ইন্টারনেটের সঙ্গে নতুন এই সেবার পার্থক্য রয়েছে। স্টারলিংক মোবাইল ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ডিশের প্রয়োজন নেই। একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ৪জি ফোন ও বাংলালিংকের সিম থাকলেই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোবাইলটি সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আকাশের দিকে তুলনামূলক পরিষ্কার দৃষ্টিসীমা প্রয়োজন হবে।
বাংলালিংক জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। জেলে, সমুদ্রে কর্মরত ব্যক্তি, ভ্রমণকারী এবং প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্যও এটি বাড়তি যোগাযোগ সুবিধা দিতে পারে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার গভীর সমুদ্র এলাকাতেও এ সেবা ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলালিংক। বিশেষ করে যেখানে মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ পৌঁছায় না, সেখানে স্যাটেলাইটনির্ভর সংযোগ একটি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
বাংলালিংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ যেখানে স্টারলিংক মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সরকার বাংলালিংক ও স্টারলিংককে প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটভিত্তিক ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অনুমতি দিয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশে সেবাটি চালু হলেও প্রতিবেশী ভারতে স্টারলিংকের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনো নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের বাজারে প্রবেশের বিলম্ব নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী আম্বানি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ইলন মাস্ক।
বৃহস্পতিবার এক্সে তিনি ভারতের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘বিশ্বের ১৬৫টি দেশে স্টারলিংকের লাইসেন্স আছে। ভারতের সরকারের প্রতিটি আইন মানার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও কেন ভারতে এখনো লাইসেন্স নেই? ভারতের আসল বস কী তাহলে আম্বানি?’
ভারত সরকার অবশ্য মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগের নিয়ন্ত্রক কাঠামো বৈষম্যমূলক নয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা যাচাই চলছে।
এমএইচআর