আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে তুরস্ক কোনো সেনা মোতায়েন করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আঙ্কারায় হাঙ্গেরির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ফিদান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই চুক্তির আওতায় অন্য দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেনা পাঠাবে না।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা; এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার চুক্তি নয়। চুক্তির কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার প্রতিরক্ষায় পাশে দাঁড়াবে।
তুরস্কের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ঘিরে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিন দেশ চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়। তবে তখন কোনো দেশ কত সেনা পাঠাবে বা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতিতে বলা হয়েছে, তিন সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে পারে।
এদিকে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সৌদি আরবকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত তুরস্ককে ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে ফেলতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে সৌদির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় তুরস্কের কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এরই মধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে। এগুলো মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনায় আরও সরঞ্জাম, প্রযুক্তিবিদ, জরুরি সাড়া দেওয়ার দল এবং প্রয়োজন হলে সীমিতসংখ্যক সামরিক কমান্ডো পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রিয়াদ, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা এবং আবকাইক থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে যাওয়া পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পশ্চিমাংশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিতসংখ্যক কমান্ডো, অভিজ্ঞ পাইলট ও বিমান মোতায়েন করা হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু
এমএইচআর