আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে দেশটিতে ‘বাংলাদেশ ও নেপালের মতো নৈরাজ্য পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, ক্ষমতায় আসার জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন রাহুল গান্ধী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন।
চলমান বিক্ষোভের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং দলীয় কর্মীদের আচরণ থেকেই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে।
প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, ‘কংগ্রেসের কৌশল হলো নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ভারতেও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির বিস্তার ঘটানো।’
আরেকটি ভিডিও প্রসঙ্গে বিজেপির এই মুখপাত্র দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে পুলিশ রাহুল গান্ধীকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ওই সময় রাহুল একজন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেন। একইভাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়েছেন।
এর আগে বিজেপির আরেক মুখপাত্র সিদ্ধার্থ যাদবও দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর মাধ্যমে রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এতে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গতকাল বুধবারও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। পরে তাদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে।
কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বিজেপি অবশ্য শুধু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগেই থেমে থাকেনি।
প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিদেশি শক্তিও ভারতে অস্থিরতা তৈরির কাজে যুক্ত থাকতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত বিষয়টি যখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তখন রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
এমএইচআর