আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
কাশ্মীরের সংঘাত নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে পুরস্কার পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা আরফাত শেখকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও (ডিএইচএস) আরফাত শেখকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। খবর রয়টার্সের।
ডিএইচএস-এর দাবি, শেখ বৈধভাবে সাময়িক সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, কোনো আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাওয়া যায় না। তবে শেখ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিবার ও বন্ধুদের দেওয়া এক বিবৃতি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি বিমানে করে ওয়াশিংটনের ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট।
পরিবার ও বন্ধুরা বর্তমানে তার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালাচ্ছেন। শেখ ২০১৯ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান।
জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরের বছর, ২০২০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেন।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার অভিবাসন আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিও ছিল তার। তবে তার আশ্রয়ের আবেদনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
আরফাত শেখের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘স্যাফ্রন কিংডম’ মুক্তি পায় ২০২৪ সালে। সিনেমাটি শিকাগো ফিল্মমেকার্স অ্যাওয়ার্ডস, এলএ ফিল্ম অ্যান্ড ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ডস, মেলবোর্ন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ওয়েক ফরেস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা শেখ টিনেক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে ‘উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যাক্টিভিস্ট পুরস্কার’-ও পেয়েছেন।
‘স্যাফ্রন কিংডম’ সিনেমায় ১৯৯০-এর দশকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় চলে যাওয়া একটি পরিবারের গল্পের মাধ্যমে কাশ্মীরের সংঘাত তুলে ধরা হয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের পুরো ভূখণ্ডই ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের বলে দাবি করে। বর্তমানে দুই দেশই অঞ্চলটির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এ নিয়ে অতীতে একাধিক যুদ্ধ হয়েছে।
২০১৯ সালের আগস্টে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে। এরপর অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।
আরফাত শেখের আটকের ঘটনা তাই তার ব্যক্তিগত অভিবাসন পরিস্থিতির পাশাপাশি কাশ্মীর নিয়ে তার চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শিল্পীসত্তার কারণেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
-এমএমএস