আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ এএম
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়ে পড়া এবং ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগে বুধবার নিজের এই আকাঙ্ক্ষার কথা নতুন করে জানান তিনি।
এই পুরস্কারের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে আমি জানি না। তবে আমার মতো মানুষদের এই পুরস্কার না দেওয়ার একটি বদনাম তাদের রয়েছে।’
গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তারই প্রাপ্য।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এখনই সময় এটি পাওয়ার।’ তবে তিনি এ-ও যোগ করেন, গতবার পুরস্কারটি যিনি পেয়েছিলেন, তিনি ইনডাইরেক্টলি সেটি আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ এটি পাওয়ার যোগ্য নয়। এতে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছি।
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে মার্কিন সমর্থন পাওয়ার আশায় দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তার নিজের পাওয়া ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আটটি সংঘাত থামানোর দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, তার এই অবদানের জন্য তারই নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।
এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া দখলদার ইসরায়েল ও কম্বোডিয়ার নেতারাও তার নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প যে সংঘাতগুলো সমাধানের দাবি করেছেন, তার পক্ষগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কূটনৈতিক ভূমিকার বিরোধিতা করেছে।
এমনকি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ এমন কিছু অঞ্চলে লড়াই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাশিয়ার সেই যুদ্ধের সমাধান এখনো তার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
তাছাড়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানে শুরু হওয়া সাত মাসের চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে চলতি বছর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিয়োজিত বিশেষ র্যাপোর্টিয়াররা এগিয়ে রয়েছেন।
-এমএমএস