আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ পিএম
শিশু হাসপাতালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী শিরান্থী রাজাপাকসেকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) কলম্বোয় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে ‘কমিশন টু ইনভেস্টিগেট অ্যালিগেশনস অব ব্রাইবারি অর করাপশন’ (সিআইএবিওসি)। এসময় তার চোখে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে।
লঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, শিরান্থীর বিরুদ্ধে তার দাতব্য সংস্থা ‘সিরিলিয়া সাভিয়া’র মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে সিআইএবিওসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর তাকে দুর্নীতি তদন্তকারী কমিশনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দেন।
তবে একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দেশটির রাষ্ট্রীয় ন্যাশনাল সেভিংস ব্যাংক (এনএসবি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান প্রদীপ কারিয়াওয়াসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, সিরিলিয়া সাভিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। অর্থটি শিশুদের একটি হাসপাতালের জন্য বিশেষায়িত স্ক্যানার কেনার কাজে ব্যবহারের কথা ছিল। তবে অর্থ পাওয়ার পরও ওই যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়নি এবং অর্থের ব্যবহারে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে শিরান্থী রাজাপাকসে অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার আইনজীবী জানিয়েছেন, দাতব্য কাজে সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি এবং তারা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবেন।
অন্যদিকে গ্রেফতারের আগে শিরান্থীকে নিয়ে আইনি তৎপরতাও শুরু হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর তিনি ৫ অক্টোবর দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরার আগে তার আইনজীবীরা সম্ভাব্য গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে সেই আবেদনের শুনানি ১২ অক্টোবর নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, শিরান্থীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি তদন্ত আরও আলোচনায় এসেছে। একসময় দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই পরিবারের একাধিক সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলায় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরে শিরান্থীর বড় ছেলে ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নামাল রাজাপাকসেকেও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিন পান।
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাবেক ফার্স্ট লেডির গ্রেফতার শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মিরর
এমএইচআর