আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বর্ধিত পাল্লার ফাতাহ-৪ ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই পরীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষায় ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত সংস্করণের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উন্নত অ্যাভিওনিক্স এবং আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি আগের তুলনায় দীর্ঘ পাল্লায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং নির্ভুলতা ও কার্যকারিতাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে সুনির্দিষ্ট পাল্লা, উৎক্ষেপণস্থল বা পরীক্ষায় ব্যবহৃত লক্ষ্যবস্তুর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন সাব-সিস্টেমের অতিরিক্ত কারিগরি সক্ষমতা—বিশেষ করে নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং টিকে থাকার সক্ষমতা উন্নত করার জন্য যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, পরীক্ষায় সেগুলোর কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষাটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সফল পরীক্ষার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ফাতাহ-৪ পাকিস্তানের স্থলভিত্তিক ক্রুজ মিসাইল কর্মসূচির অংশ। এটি মাটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড ফাতাহ-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছিল। ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লা প্রদর্শন করে।
তারও আগে এপ্রিল মাসে ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতার মধ্যেই পাকিস্তানের এই পরীক্ষা সামনে এলো। বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর